গ্যাস্ট্রিকের সহজ ঘরোয়া চিকিৎসাঃ
আপনার কি অ্যাসিড রিফ্লাক্স হচ্ছে?
প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
- বুক জ্বালাপোড়া করা। বুকের ঠিক মাঝামাঝি জায়গাটায় জ্বালাপোড়া অনুভব করা।
- মুখে অপ্রীতিকর টক স্বাদ পাওয়া, পাকস্থলীর অ্যাসিড মুখে চলে আসার কারণে।
এছাড়াও আপনার আরো যেসব লক্ষণ থাকতে পারে:
- পেট ফাঁপা,
- বমি ভাব হওয়া,
- বারবার কাশি বা হেঁচকি হতে থাকা,
- কণ্ঠ কর্কশ হয়ে যাওয়া,
- শ্বাসে দুর্গন্ধ আসা।
খাওয়ার পরে, শোবার পরে বা উপুড় হলে লক্ষণগুলো আরো তীব্র রূপ ধারণ করতে পারে।
এর কারণগুলো কী কী?
নির্দিষ্ট কোন কারণ ছাড়াই সময়ে সময়ে অনেকের বুক জ্বালাপোড়া করে। তবে মাঝেমধ্যে কিছু জিনিস এই জ্বালাপোড়ার সূত্রপাত ঘটায় বা তীব্রতা বাড়ায়। যেমন:
- নির্দিষ্ট কিছু খাবার ও পানীয়- চর্বিযুক্ত বা মসলাদার খাবার, কফি, চকলেট, অ্যালকোহল, ইত্যাদি,
- ধূমপান,
- মানসিক চাপ ও উদ্বেগ,
- ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়া,
- গর্ভাবস্থা,
- হায়াটাস হার্নিয়া (hiatus hernia) নামের একটা রোগ যেখানে পাকস্থলীর কিছু অংশ বুকে উঠে আসে,
- কিছু ওষুধ যেমন আইবুপ্রোফেন (ibuprofen)। আপনি যদি ডাক্তারের পরামর্শে এই ওষুধগুলি খান, তাহলে কোনভাবেই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ওষুধগুলো বন্ধ করবেন না।
বাসায় বসে কীভাবে নিজে নিজে চিকিৎসা করবেন?
দৈনন্দিন জীবনে সহজ কিছু পরিবর্তন আনার মাধ্যমে আপনি অ্যাসিড রিফ্লাক্স সারিয়ে তুলতে বা কমিয়ে আনতে পারবেন। যেমন:
১। একবারে ভরপেট খেলে এই সমস্যা বেশি হয়। সারা দিনে ভাগ করে অল্প অল্প করে খাবার খাবেন।
২। যে সকল খাবার কিংবা পানীয় খেলে আপনার সমস্যা বেড়ে যায়, সেগুলো এড়িয়ে চলবেন।
৩। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ৩-৪ ঘন্টার মধ্যে কিছু খাবেন না।
৪। বিছানায় শোবার সময় আপনার মাথা আর বুক যাতে কোমরের চেয়ে ১০-২০ সেন্টিমিটার উঁচু অবস্থানে থাকে। তাতে পাকস্থলীর অ্যাসিড গলা পর্যন্ত উঠে আসতে পারবে না। বালিশ দিয়ে মাথা উঁচু করবেন না। তোষকের নিচে বা খাটের নিচে কিছু দিয়ে খাটের একটা দিক উঁচু করে নিবেন এবং সেইদিকে মাথা দিবেন।
৫। এমন কাপড় পরবেন না যা কোমরে আঁটসাঁট হয়ে বসে থাকে।
৬। আপনার ওজন অতিরিক্ত হলে তা কমিয়ে ফেলুন।
৭। ধূমপান করবেন না।
৮। মনে প্রশান্তি আনে এমন কিছু কাজ নিয়মিত করুন।
৯। নিজে নিজে আইবুপ্রোফেন (ibuprofen) অথবা অ্যাসপিরিন (aspirin) সেবন করবেন না, কারণ এই ওষুধগুলো বদহজম আরো বাড়ায়। তবে আপনি যদি ডাক্তারের পরামর্শে এই ওষুধগুলি খান, তাহলে কোনভাবেই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ওষুধগুলো বন্ধ করবেন না।
আরো বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুনঃ


0 Comments