করোনা রোগীর কখন দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন?
মনে রাখবেন, এই লক্ষণগুলোর যে কোন একটা দেখা দেওয়া মানেই করোনা হয়েছে তা নিশ্চিত নয়। করোনা আসার আগেও মানুষের জ্বর-সর্দি হত। তবে এখন লক্ষণ দেখা দিলে করোনার কথা চিন্তা করতে হবে এবং সব ধরণের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যেমন, বাসার বাইরে না যাওয়া। যদি পরীক্ষা করার সুযোগ থাকে, তবে তো নিশ্চিত হতেই পারবেন।
হাসপাতালে না যেয়ে বাসায় থাকার এই পরামর্শে আপনার খটকা লাগতে পারে। আমরা সাধারণত অসুস্থ বোধ করলে ডাক্তারের কাছে যেতে বলি। কিন্তু করোনার ক্ষেত্রে বলছি উল্টো। আসলে মৃদু উপসর্গের রোগীর জন্য আলাদা কোন চিকিৎসা নেই। তাই হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন পরে না। বরং হাসপাতালে গেলে অন্যান্য ইনফেকশনে আক্রান্ত হতে পারেন।
কখন দ্রত হাসপাতালে যেতে হবে?
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলেই ঘাবড়ে যাবেন না। বরং ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনা করবেন কীভাবে আপনি দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছতে পারেন।
১। শ্বাসকষ্ট – দম আটকে যাচ্ছে। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। হাঁটতে গেলে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।
২। ঠোঁট বা চেহারা নীল হয়ে যাওয়া – এটার মানে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। রক্তে অক্সিজেন স্বল্পতা আগেই ধরে ফেলার জন্য বাসায় পালস অক্সিমিটার ব্যবহার করতে পারেন। অনেক কোভিড রোগীর শ্বাসকষ্ট হয় না কিন্তু দেখা যায় অক্সিজেন লেভেল অনেক কম।
৩। প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া বা খুব কমে যাওয়া – এটা কিডনি আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ।
৪। বুকে ব্যথা কিংবা চাপ চাপ লাগা – এটা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। তীব্র শ্বাসকষ্টের কারণেও হতে পারে। দয়া করে কোন ভাবেই বুকে ব্যথা এড়িয়ে যাবেন না।
৫। হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, প্রচণ্ড ঘাম, মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া – এটাও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। হার্ট অ্যাটাক হলে যে সবারই বুকে ব্যথা হবে, এই ধারণাটা সঠিক নয়।
৬। এমন র্যাশ ওঠা যেটার উপরে গ্লাস দিয়ে চাপ দিলে মিলিয়ে যায় না – এটা মস্তিষ্কে ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে।
৭। মুখে কথা আটকে যাওয়া বা হাত পা অবশ হয়ে যাওয়া, নাড়াতে না পারা– অনেকেই জানেন যে এটা স্ট্রোকের লক্ষণ।
৮। কাশির সাথে রক্ত যাওয়া
শেষের তিনটি লক্ষণ হয়তো রোগী নিজে বুঝতে পারবে না। রোগীকে যারা সেবা দিবেন, তাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে। লক্ষণগুলো হল:
৯। ঝিমুতে থাকা – রোগী একেবারেই জেগে থাকতে পারছে না যে সময়ে স্বাভাবিকভাবে জেগে থাকতে পারে। রোগীকে ডেকেও জাগিয়ে তোলা যাচ্ছে না। বারবার ঝিমিয়ে পড়ছে।
১০। বিভ্রান্তি (confusion) – রোগী ভুলে যাচ্ছে, কিছু মনে রাখতে পারছে না, বা অসংলগ্ন আচরণ করছে, যা রোগীর জন্য স্বাভাবিক না।
১১। রোগী অজ্ঞান হয়ে পরা।
বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুনঃ


0 Comments